মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। মূলত এই কারণেই সাগর বেশ উত্তাল। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই নিম্নচাপের জেরে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই। বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে কেবল হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের জন্য আলাদা করে আবহাওয়া সংক্রান্ত কোনো সতর্কতাও জারি করা হয়নি। তবে নিরাপত্তার খাতিরে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের এবং ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওড়িশা উপকূলের জেলেদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.২ ডিগ্রি এবং বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ ছিল বেশ রৌদ্রোজ্জ্বল, বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির দেখা মেলেনি। দক্ষিণবঙ্গে তেমন কোনো প্রভাব না পড়লেও উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জায়গায় বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। শনিবার ও রবিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় সেখানে দুই দিনের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি বাজ পড়ার ঝুঁকি থাকায় সবাইকে সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
নিউজিল্যান্ডে জারি জরুরি অবস্থা
আমাদের এই অঞ্চলে যখন কেবলই মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি, ঠিক তখন পৃথিবীর আরেক প্রান্তে প্রকৃতির এক ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা চলছে। একটি শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় আছড়ে পড়েছে নিউজিল্যান্ডের ওপর। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে নর্থল্যান্ড এবং হোয়াঙ্গারেই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই সাত দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা মেটসার্ভিস জানিয়েছে, এই ধ্বংসাত্মক ঝড়ের কারণে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জারি করা সতর্কতা খুব শিগগিরই সর্বোচ্চ পর্যায়ের বা ‘রেড অ্যালার্ট’-এ উন্নীত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ভূমিধস ও বন্যার আতঙ্কে বিভিন্ন শহর
নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শহর এখন চরম আতঙ্কের প্রহর গুনছে। টাউরাঙ্গা সিটি কাউন্সিল তাদের বাসিন্দাদের মারাত্মক ভূমিধসের বিষয়ে সতর্ক করেছে। শনিবার রাত ১টা পর্যন্ত সেখানে ভারী বৃষ্টির জন্য অরেঞ্জ অ্যালার্ট বহাল থাকবে। আগের বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে থাকায় নতুন করে ধস নামার ঝুঁকি অনেক বেশি। যদি কেউ বুঝতে পারেন যে তার আশেপাশে ভূমিধস হচ্ছে, তবে তাকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে বা উঁচু স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই অ্যাডামস অ্যাভিনিউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকেই যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত এই রাস্তা খোলা হবে না।
বে অব প্লেনটি এলাকার বাসিন্দাদের যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সিভিল ডিফেন্স। সেখানে প্রায় ১৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, ফলে কমলা সতর্কতা যেকোনো মুহূর্তে লাল সতর্কতায় রূপ নিতে পারে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বন্যার আশঙ্কাও প্রবল। অন্যদিকে, করোম্যান্ডেল অঞ্চলে আগে হওয়া বৃষ্টির পাশাপাশি আরও ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ২০০ মিলিমিটার পর্যন্তও গড়াতে পারে। পুরো অকল্যান্ড এখন বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অরেঞ্জ অ্যালার্টের আওতায় থাকলেও সেখানে পরিস্থিতি রেড অ্যালার্টে যাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম। নেলসন ও তাসমান জেলার বাসিন্দাদের মারাত্মক আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সেখানে আড়াইশ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী ও জলাশয়ের আশেপাশের মানুষদের চরম সাবধানে চলাফেরা করতে বলেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সতর্কতা অবহেলা নয়
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের রিচমন্ড, ব্রায়ান্ট রেঞ্জ, ওয়েস্টল্যান্ডের একাংশ এবং ওটাগোর উত্তরাংশেও ভারী বৃষ্টির অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি রয়েছে। এই অঞ্চলে নব্বই মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির ডিরেক্টর জন প্রাইস কড়া ভাষায় সবাইকে সতর্ক করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে রেড অ্যালার্ট মোটেও কোনো ঠাট্টার বিষয় নয়। আবহাওয়া চরম পর্যায়ে পৌঁছালেই কেবল এমন সতর্কতা দেওয়া হয়। ভারী বৃষ্টি ও বাতাস থেকে হওয়া বন্যা বা ভূমিধস মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। তাই বিপদের আঁচ পেলে অযথা বোকামি করে নিজের জীবন বিপন্ন না করতে তিনি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ যদি ইচ্ছে করে বিপদে পড়েন, তবে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে জরুরি পরিষেবা দলের মূল্যবান সময় নষ্ট হবে, যা অন্য কোনো মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে লাগতে পারত।
More Stories
আজকের রাশিফল: ৫ মার্চ ২০২৬ – গ্রহের অবস্থানে কার কেমন কাটবে দিন?
জ্যোতিষশাস্ত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী চার রাশি ও ৪ মার্চের বিশেষ পূর্বাভাস