4 ফেব্রুয়ারি 2026

গুগল ইকোসিস্টেমে বড় রদবদল: স্ট্রিট ভিউ অ্যাপ বন্ধের পাশাপাশি ক্লাউড পরিষেবায় নতুন গতি

প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষ সংস্থা গুগল সম্প্রতি তাদের সফটওয়্যার ও ক্লাউড পরিষেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। একদিকে যেমন সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ কমিয়ে আনা হচ্ছে, অন্যদিকে ডেভেলপারদের সুবিধার্থে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের গতি বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সম্প্রতি আসা খবর অনুযায়ী, গুগল তাদের স্বতন্ত্র ‘স্ট্রিট ভিউ’ অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একই সঙ্গে গুগল কুবারনেটিস ইঞ্জিনে (GKE) বড়সড় আপডেট এনেছে।

স্ট্রিট ভিউ অ্যাপের বিদায়ঘণ্টা

গুগল ম্যাপস ব্যবহারকারীদের কাছে ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ বা রাস্তার দৃশ্য দেখার বিষয়টি বেশ জনপ্রিয়। তবে গুগল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘স্ট্রিট ভিউ’ নামের আলাদা অ্যাপটি সরিয়ে ফেলা হবে। আগামী মার্চ মাস থেকে এই অ্যাপে আর কোনো সাপোর্ট বা সহায়তা পাওয়া যাবে না। প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ভার্জ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুগলের মুখপাত্র ম্যাডিসন গোভিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত ‘৯টু৫গুগল’ তাদের এক প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক আপডেটের সূত্র ধরে প্রথম এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

তবে ব্যবহারকারীদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস—উভয় প্ল্যাটফর্মেই গুগল ম্যাপসের মূল অ্যাপের ভেতরেই স্ট্রিট ভিউ ফিচারটি বহাল থাকছে। যারা ৩৬০ ডিগ্রি ছবি বা গুগলের ভাষায় ‘ফটো স্ফিয়ার্স’ আপলোড করতে চান, তাদের জন্য গুগল ‘স্ট্রিট ভিউ স্টুডিও’ নামের একটি ওয়েব অ্যাপ চালু রেখেছে। ভার্জের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু মূল ম্যাপ অ্যাপেই সব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, তাই আলাদা করে একটি অ্যাপ রাখাটা গুগল অপ্রয়োজনীয় মনে করছে।

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে বড় উল্লম্ফন

ভোক্তা পর্যায়ের অ্যাপ ছাঁটাইয়ের খবরের মাঝেই গুগল তাদের এন্টারপ্রাইজ বা ব্যবসায়িক ক্লাউড পরিষেবায় এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। গুগল ক্লাউড তাদের কুবারনেটিস ইঞ্জিনে (GKE) ‘প্যারালাল নোড পুল ক্রিয়েশন’ বা সমান্তরালভাবে একাধিক নোড পুল তৈরির সুবিধা যুক্ত করেছে। এই নতুন আপডেটের ফলে ক্লাউড সার্ভারের প্রভিশনিং টাইম বা প্রস্তুতির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং অটোস্কেলিংয়ের পারফরম্যান্স অনেক উন্নত হবে।

এতদিন পর্যন্ত কুবারনেটিস ক্লাস্টারে নোড পুলগুলো একটার পর একটা—অর্থাৎ সিকোয়েন্সিয়াল পদ্ধতিতে তৈরি হতো। একটি নতুন নোড পুল তৈরি করতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড সময় লাগত। ফলে বড় কোনো প্রজেক্টে যখন একসঙ্গে একাধিক নোড পুলের প্রয়োজন হতো, তখন অনেকটা সময় নষ্ট হতো এবং কাজের গতি কমে যেত। নতুন এই ফিচারের ফলে এখন একসঙ্গে একাধিক নোড পুল তৈরি করা সম্ভব হবে। গুগলের অভ্যন্তরীণ বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের ফলে সার্ভার প্রস্তুত করার গতি প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

এআই ও ডেভেলপারদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বিশেষ করে তাদের জন্যই লাভজনক হবে, যারা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন বা ‘হেটেরোজিনিয়াস ওয়ার্কলোড’ নিয়ে কাজ করেন। যেমন—একই ক্লাস্টারে সিপিইউ (CPU), জিপিইউ (GPU) বা টিপিইউ (TPU)-এর মতো ভিন্ন ভিন্ন রিসোর্স ব্যবহারের প্রয়োজন হলে এখন আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ট্রেনিং এবং মেশিন লার্নিংয়ের বড় কাজগুলোতে, যেখানে আলাদা আলাদা হার্ডওয়্যার স্লাইসের প্রয়োজন হয়, সেখানে এই সমান্তরাল প্রসেসিং বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া যারা খরচ কমাতে গুগলের ‘স্পট ভিএম’ (Spot VM) ব্যবহার করেন, তাদের কাজের গতিও এই আপডেটের ফলে ত্বরান্বিত হবে।