4 ফেব্রুয়ারি 2026

তিলকের ঝোড়ো প্রত্যাবর্তনে বিশ্বকাপের আগে স্বস্তি ভারতীয় শিবিরে, অন্যদিকে জমে উঠল গ্রুপ পর্বের অঙ্ক

বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক মুখে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য এল বড় সুখবর। পেটের চোট সারিয়ে দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর অবশেষে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরলেন তারকা ব্যাটার তিলক বর্মা। বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে রিহ্যাব শেষ করে সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। নভি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে আমেরিকার বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া ‘এ’ দলের হয়ে তিলকের ব্যাট থেকে এল ঝকঝকে ইনিংস, যা মূল টুর্নামেন্টের আগে ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।

চোট সারিয়ে ফিরেই তিলকের দাপট

এদিন চার নম্বর ওভারের পর ব্যাট করতে নামেন তিলক। শুরুতে কিছুটা সময় নেন উইকেটে থিতু হতে। প্রথম বাউন্ডারিটি আসে তাঁর খেলা সপ্তম বলে। এরপরই গিয়ার বদলান এই বাঁহাতি ব্যাটার। নবম ওভারে হারমিত সিংয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মেজাজে জোড়া চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। পরে নসথুশ কেনজিগেকে গ্যালারিতে ফেলে নিজের রান ৩৮-এ নিয়ে যান। শেষপর্যন্ত ২৪ বলে ৩৮ রান করে মোনাঙ্ক প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও, তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও দুটি বিশাল ছক্কা। বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হলেও ক্রিজে তাঁকে দেখে পুরোপুরি ফিট মনে হয়েছে, যা ৭ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার বিরুদ্ধে ভারতের বিশ্বকাপ অভিযানের আগে অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।

দল নির্বাচনে কঠিন সমীকরণ

তিলক বর্মা ফিট হয়ে ওঠায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে এখন একাদশ নির্বাচনের মধুর সমস্যা। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ভারত। তবে প্রশ্ন উঠছে, তিলক একাদশে ফিরলে বাদ পড়বেন কে? ফর্মে থাকা ঈশান কিষান নাকি সঞ্জু স্যামসন? ঈশান কিষান প্রত্যাবর্তনের পর থেকে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন এবং অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেনিংয়ে তাঁকে দেখার সম্ভাবনাই প্রবল। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সঞ্জু স্যামসনের রান খরা তাঁকে বেঞ্চে ঠেলে দিতে পারে। তিলক যদি সম্পূর্ণ ফিট থাকেন, তবে সঞ্জুর পরিবর্তে তাঁর একাদশে জায়গা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।

গ্রুপ শীর্ষে ভারত, বাবরদের জয়ে লড়াইয়ে ফিরল পাকিস্তান

অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের সমীকরণ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে গ্রুপ-২ এর অঙ্ক জমিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। বাবর আজমদের এই জয়ে ভারতের গ্রুপ শীর্ষে থাকার পথ আরও সুগম হয়েছে। চার ম্যাচ খেলে তিনটি জয়ে রোহিত শর্মাদের পয়েন্ট এখন ৬, এবং নেট রানরেট ০.৭৩০। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটি জিতলেই গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত করবেন রোহিতরা।

পয়েন্ট তালিকার জটিল অঙ্ক

পাকিস্তানের কাছে হেরে দক্ষিণ আফ্রিকা এখন দ্বিতীয় স্থানে। চার ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৫ এবং নেট রানরেট ১.৪৪১। তাদের শেষ ম্যাচ নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে জিতলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত, কিন্তু হারলেই বেজে যাবে বিদায়ঘণ্টা। বাবর আজমরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে এক লাফে তিন নম্বরে উঠে এসেছেন। চার ম্যাচে তাঁদের পয়েন্ট ৪। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলবে পাকিস্তান। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের শেষ ম্যাচে পয়েন্ট খোয়ায়, তবেই শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ থাকবে পাকিস্তানের সামনে।

বাকি দলগুলোর অবস্থান

ভারতের কাছে হার এবং পরে পাকিস্তান জিতে যাওয়ায় বাংলাদেশ এখন পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে। চার ম্যাচে শাকিবদের পয়েন্ট ৪ হলেও, ঋণাত্মক নেট রানরেট (-১.২৭৬) তাঁদের বেশ পিছিয়ে রেখেছে। শেষ ম্যাচ জিতলেও তাঁদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, জিম্বাবোয়ে ও নেদারল্যান্ডসের আশা কার্যত শেষ। চার ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে জিম্বাবোয়ে পাঁচে এবং মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডস সবার নিচে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো এখন কেবলই নিয়মরক্ষার হলেও, বড় দলগুলোর জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।