বলে কি! পাওয়া গেল হিমালয়ের চেয়ে চার গুণ বিস্তৃত পর্বতমালার খোঁজ
কলকাতা টাইমস :
এশিয়া মহাদেশের বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে হিমালয় পর্বতমালা। হিমালয়ের চেয়েও বিস্তৃত পর্বতমালা যে একসময় পৃথিবীতে ছিল, তার প্রমাণ পেলেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। তাঁরা সেই বিস্তৃত পর্বতমালাকে বলছেন ‘মহাপর্বতমালা’। গবেষকদের দাবি, পৃথিবীর গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মহাপর্বতমালা।
সম্প্রতি একটি ভূতাত্ত্বিক গবেষণা জার্নালে ওই মহাপর্বতমালা নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশ হয়েছে। হিমালয়ের চেয়ে চার গুণ বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ছিল সেটি। হিমালয়ের বিস্তৃতি দুই হাজার ৩০০ কিলোমিটার। সেই তুলনায় সদ্যঃসন্ধান জানতে পারা পর্বতমালার বিস্তৃতি ছিল আট হাজার কিলোমিটার।
পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাসে দুটি পর্বে ওই পর্বতমালা গঠিত হয়েছিল বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। তারা বলেছেন, প্রথমবার গঠিত হয়েছিল ২০০ কোটি থেকে ১৮০ কোটি বছর আগে এবং দ্বিতীয়বার এর গঠনপ্রক্রিয়া শুরু হয় ৬৫ থেকে ৫০ কোটি বছর আগে।
গবেষকরা আরো বলেছেন, ওই পর্বতমালা দুবার গঠিত হওয়ার সঙ্গে পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাস জড়িত আছে। ‘আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স লেটার্স’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সুউচ্চ পর্বতমালার শিকড়ে বেশ কিছু বিরল খনিজ উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেগুলো সাধারণত তীব্র চাপের মধ্যে তৈরি হয়েছে। তা থেকেই গবেষকরা মনে করছেন, ‘মহাপর্বত’-এর উত্থানের সঙ্গে পৃথিবীর বিবর্তন যুক্ত রয়েছে।
গবেষকদের মতে, জীবের বিবর্তনের ক্ষেত্রেও ওই ‘মহাপর্বতমালা’র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যখন পর্বতগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, সেগুলো সমুদ্রে ফসফরাস এবং লোহার মতো প্রয়োজনীয় পদার্থ সরবরাহ করে।
সেগুলো জৈবিক চক্রকে গতি এবং বিবর্তনকে আরো জটিলতার দিকে নিয়ে যায়। ‘মহাপর্বতমালা’গুলোর অস্তিত্বের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের মাত্রা বেড়ে গেছে বলেও গবেষকরা জানিয়েছেন। এর ফলে জীব ও উদ্ভিদ জগতের টিকে থাকা ও বিবর্তন সম্ভব হয়েছে।