এই বছর এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা হয়তো অনেকেই করেছেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের ঢেউ সরাসরি এসে পড়েছে পর্যটন খাতের ওপর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়েই তেলের দাম এখন আকাশছোঁয়া।
বিমান চলাচলে বিঘ্ন ও খরচের বোঝা
জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে এয়ারলাইন্সগুলো রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা এই বাড়তি খরচের বোঝা সরাসরি যাত্রীদের কাঁধেই চাপাচ্ছে, যার ফলে প্লেনভাড়া এবং ফুয়েল সারচার্জ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। শুধু খরচ বৃদ্ধিই নয়, দেখা দিয়েছে ফ্লাইটের প্রাপ্যতা নিয়েও সংকট। ভিয়েতনামের মতো এভিয়েশন কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে জ্বালানি সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে এনেছে। তারা এখন কেবল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতেই ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তাছাড়া আকাশপথের নিরাপত্তা ও সংঘাতের কারণে অনেক ফ্লাইট ঘুরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যাত্রাপথে সময় লাগছে অনেক বেশি এবং হঠাৎ ফ্লাইট বাতিলের মতো ঘটনাও ঘটছে।
গন্তব্যে পৌঁছেও মিলছে না স্বস্তি
কন্ডে নাস্ট ট্রাভেলার ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সাশ্রয়ের নানা পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের পরিবহন ভাড়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পর্যটকদের উপর। হোটেলে বা দর্শনীয় স্থানে আগের মতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ না-ও মিলতে পারে। অনেক রেস্তোরাঁ ও শপিং মলের সময়সূচি কমিয়ে আনা হয়েছে। এমনকি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো পরিস্থিতিরও মুখে পড়তে পারেন ভ্রমণকারীরা। আতিথেয়তা খাতগুলো কর্মী ছাঁটাই এবং শক্তি খরচ হয় এমন সুবিধাগুলোও কমিয়ে দিচ্ছে।
এত ঝক্কির মাঝেও ত্বকের যত্ন
ঘোরাঘুরি মানেই মন চাঙ্গা করা এক অভিজ্ঞতা। কিন্তু দীর্ঘ যাত্রাপথের এই ধকল, ফ্লাইট বিলম্ব আর গন্তব্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে শারীরিক ও মানসিক চাপের পাশাপাশি ত্বকের ওপরও বেশ বড় প্রভাব পড়ে। এমনিতেই ভ্রমণের সময় দৌড়াদৌড়িতে নিজের দিকে খেয়াল রাখার ফুরসত মেলে না। এর ওপর অতিরিক্ত ধুলোবালি, গণপরিবহনের ব্যবহার আর অনিয়মে ত্বক সহজেই তার স্বাভাবিক জৌলুস হারায়। তবে একটু সচেতন হলেই এই বাড়তি ঝক্কির মাঝেও খুব সহজেই ত্বক সতেজ রাখা সম্ভব। এর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করার দরকার নেই।
ব্যাগে যা যা রাখা জরুরি
ভ্রমণের সময় বারবার মুখ ধোয়ার সুযোগ থাকে না। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ এয়ারপোর্টে বসে থাকলে বা ফ্লাইটে। তাই হাতের কাছে ফেসিয়াল ওয়াইপ রাখা বেশ বুদ্ধিমানের কাজ। গাড়ি হোক বা প্লেন, যেকোনো জায়গাতেই এটি দিয়ে খুব সহজেই মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া যায়। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতাও ঠিক থাকে। পাশাপাশি একটি ফেসিয়াল মিস্ট স্প্রে সঙ্গে রাখতে পারেন। প্লেনের শুষ্ক পরিবেশ হোক বা গন্তব্যের রুক্ষ আবহাওয়া, এটি ত্বককে তাৎক্ষণিকভাবে আর্দ্র করতে সাহায্য করবে। যাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক, তাদের জন্য এটি ভীষণ কার্যকরী।
রুটিন হোক সাধারণ কিন্তু কার্যকর
সারাদিনের ঘোরাঘুরিতে মুখে প্রচুর ধুলোবালি ও জীবাণু জমে। ক্লিনজার মূলত এসব ধুলো-বালি দূর করে ত্বককে সতেজ রাখে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে এটি ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় গেলে ত্বককে আর্দ্র রাখতে ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের বিকল্প নেই। আর দিনের বেলায় বাইরে বেরোলে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। আরেকটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বারবার মুখে হাত দেওয়ার অভ্যাস পরিহার করা। বাইরে থাকলে হাতের সংস্পর্শে প্রচুর ধুলোবালি আর জীবাণু আসে। সেই হাত বারবার মুখে লাগালে ব্রণ ও জ্বালাভাব হওয়ার আশঙ্কা থাকে অনেকটাই। তাই বাইরে চলাফেরার সময় মুখে হাত দেওয়া এড়িয়ে চলুন।
More Stories