15 জুন 2026

মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির আবহে সোনার দামে বড়সড় লাফ: একনজরে আজকের বাজারদর

আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কিছুদিন ধরেই একটা অস্থিরতা চলছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরানের সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে কালো মেঘ জমেছিল, তা এবার অনেকটাই কাটতে চলেছে। রবিবার আমেরিকা ও ইরানের আধিকারিকরা যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সায় দিয়েছেন, যেখানে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্স-হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সই হতে চলেছে। আর এই জোরালো খবরের জেরে সোমবার এক ধাক্কায় সোনার দাম ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। পাশাপাশি, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও একধাক্কায় ৪ শতাংশের মতো কমেছে।

যুদ্ধ চলাকালীন মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে সুদের হার বাড়ার একটা ভয় ছিল। এর জেরেই ফেব্রুয়ারি থেকে সোনার দাম প্রায় ২০ শতাংশ মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কারণ সুদের হার চড়া থাকলে লগ্নিকারীদের কাছে সোনা বা বুলিয়নের মতো সম্পদ, যা থেকে সরাসরি কোনও সুদ আসে না, তার আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। কিন্তু এখন হাওয়া ঘুরছে। স্পট গোল্ড সোমবার ২.৫ শতাংশের মতো বেড়ে আউন্স প্রতি ৪,৩২২.৮৭ ডলারে পৌঁছয়, যা গত ৯ জুনের পর সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টার শুরুর দিকের কমেক্স (Comex) ট্রেডে তা আরও চড়ে ২.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধির সাথে ৪,৩৫১.২০ ডলারে ট্রেড করতে দেখা যায়। মার্কিন গোল্ড ফিউচার্স (আগস্ট ডেলিভারি) ২.৫ শতাংশ বেড়ে ৪,৩৪৪.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। রুপোও পিছিয়ে নেই; কমেক্স ট্রেডে রুপোর দাম ৪.১৮ শতাংশ বেড়ে ৭০.৮১ ডলার প্রতি আউন্সে ঠেকেছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমার কারণে তেলের দাম আর ডলারের দর—দুটোই এখন পড়তির দিকে। ডলার তার ১০ দিনের সর্বনিম্ন স্তরে চলে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সোনা কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির যে চোখরাঙানি ছিল, তা অনেকটাই থিতু হচ্ছে।

আজ, ১৫ জুন, আমাদের দেশীয় বাজারে—বিশেষ করে দিল্লি, মুম্বাই বা কলকাতার মতো শহরগুলোতে—এই আন্তর্জাতিক রদবদলের পরিষ্কার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার (১২ জুন) বাজার বন্ধ হওয়ার সময় আমাদের এখানে ২৪ ক্যারেট স্পট গোল্ডের দাম ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৩৬৭ টাকা। আর ফিউচার মার্কেটের দিকে তাকালে দেখা যাবে, এমসিএক্স-এ (MCX) আগস্ট চুক্তির ক্ষেত্রে সোনা ০.১ শতাংশ বেড়ে ১০ গ্রামে ১,৫০,৬৭৫ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। রুপোর ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা; জুলাই চুক্তির ফিউচার্স ০.১৭ শতাংশ চড়ে প্রতি কেজিতে ২,৪৬,৬০৪ টাকায় পৌঁছেছে।

এই শান্তি চুক্তির পর বাজার এখন রীতিমতো নিশ্চিন্ত। ডিসেম্বরে আমেরিকায় ফেড-এর সুদের হার বাড়ানোর যে জল্পনা ছিল, তা গত সপ্তাহের ৬৯ শতাংশ থেকে একধাক্কায় ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে বলে সিএমই ফেডওয়াচ (CME FedWatch) টুল দেখাচ্ছে। লগ্নিকারীদের নজর এখন পুরোপুরি বুধবারের দিকে। ওইদিন ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ-এর নেতৃত্বে প্রথম পলিসি সিদ্ধান্ত আসতে চলেছে। আপাতত সুদের হার অপরিবর্তিত থাকারই সম্ভাবনা প্রবল। বাজার এখন মূলত এই নতুন নীতি আর পরিবর্তিত বিশ্ব সমীকরণের দিকেই তাকিয়ে আছে।