‘গেম চেঞ্জার’-এর বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার পর রাম চরণের কেরিয়ারে একটা বড়সড় হিটের বড্ড দরকার ছিল। আর ঠিক সেই কাজটাই করে দেখাল ‘পেড্ডি’। বুচি বাবু সানা পরিচালিত এই ছবি মুক্তির দশ দিনের মাথায় বিশ্বজুড়ে ৩৭৮ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করে ২০২৬ সালের দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টার হয়ে দাঁড়িয়েছে। Sacnilk-এর রিপোর্ট বলছে, দশম দিনে ভারতে ৩,৯৬২টি শো থেকে ছবিটির পকেটে এসেছে ৮.১০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ভারতে এর নেট কালেকশন দাঁড়াল ২০৬.৮০ কোটি আর গ্রস কালেকশন ২৪৫.৫৩ কোটি টাকায়। আটের দশকের প্রেক্ষাপটে অন্ধ্রপ্রদেশের এক গ্রামের ছেলে কীভাবে খেলাধুলোর মাধ্যমে গোটা গ্রামকে একজোট করে এক প্রভাবশালী শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, সেই গল্পই এখানে বলা হয়েছে। ‘আরআরআর’-এর পর এটিই রাম চরণের দ্বিতীয় এবং একক লিড হিসেবে প্রথম ছবি, যা দেশীয় বাজারে ২০০ কোটির ক্লাবে পা রাখল। উইকএন্ডের ছুটিতে দর্শক আবারও হলমুখী হওয়ায় দ্বিতীয় সপ্তাহেও ছবিটির এই দাপট অব্যাহত।
তবে বক্স অফিসে টাকার পাহাড় গড়লেও, এই ছবিকে ঘিরে বিতর্কের মেঘ কিন্তু কাটেনি। জাহ্নবী কাপুর অভিনীত চরিত্র ‘অচ্চিয়্যাম্মা’-কে যেভাবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে, তা নিয়ে দর্শক ও অনুরাগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। অকারণে অবজেক্টিফিকেশন, আপত্তিকর ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল আর ক্লোজ-আপ শট নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই নেতিবাচক প্রচার বক্স অফিসে সেভাবে কোনো আঁচড় কাটতে পারেনি। রাম চরণ আর জাহ্নবীর পাশাপাশি ছবিতে শিব রাজকুমার, জগপতি বাবু, দিব্যেন্দু শর্মা এবং বোমান ইরানির মতো অভিনেতারা রয়েছেন, আর এ.আর. রহমানের মিউজিক আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। বিদেশের বাজারেও ‘পেড্ডি’-র দৌড় নজরকাড়া। দশম দিনে আরও এক কোটি টাকা যোগ করে বিদেশের বক্স অফিসে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৫১ কোটিতে। উত্তর আমেরিকায় মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই ছবিটি ৩ মিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে, যা ওই অঞ্চলে রাম চরণের তৃতীয় ৩ মিলিয়ন ডলার ক্লাবের সিনেমা।
অন্যদিকে, ‘পেড্ডি’-র এই বক্স অফিস কাঁপানো পারফরম্যান্সের মাঝেই উইকএন্ডে মুক্তি পাওয়া বাকি সিনেমাগুলোর টিকে থাকার লড়াই বেশ ইন্টারেস্টিং। নতুন রিলিজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ব্যবসা করেছে ‘হন্টেড: ইকোজ অফ দ্য পাস্ট থ্রিডি’। শুক্রবার ২.৫০ কোটি দিয়ে খাতা খুলে শনি ও রবিবার যথাক্রমে ৩.৩৩ এবং ৩.৫৫ কোটি টাকা তুলে উইকএন্ডে এর মোট আয় ৯.৩৮ কোটি টাকা। রবিবারের গ্রোথ খুব একটা বেশি না হলেও, বাকিদের চেয়ে এটি অনেকটাই এগিয়ে থেকে উইকএন্ড চার্টের শীর্ষে রয়েছে। এরপরই রয়েছে ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’, যার উইকএন্ড কালেকশন ৫.৬৩ কোটি টাকা। শুক্রবারে ১.২৮ কোটি, শনিতে ১.৮৫ আর রবিবার ২.৫০ কোটি— বিশেষ করে রবিবার ছবিটির ব্যবসায়িক গ্রাফ বেশ আশাব্যঞ্জক।
বাকি দুটো ছবির অবস্থা খুব একটা আহামরি নয়। ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ উইকএন্ডে ৪.১৩ কোটি টাকা ঘরে তুলেছে। তিন দিনে (শুক্রবারে ১ কোটি, শনিতে ১.৪০ কোটি, রবিবারে ১.৭৩ কোটি) একটা স্থিতিশীল বৃদ্ধি দেখা গেলেও, মোটের ওপর কালেকশন বেশ সাধারণ। আর সবশেষে রয়েছে ‘গভর্নর’, যার তিন দিনের মোট আয় ৩.৪৯ কোটি টাকা (০.৯৪ কোটি, ১.১৫ কোটি, ১.৪০ কোটি)। সব মিলিয়ে এই চারটে নতুন ছবি উইকএন্ডে প্রায় ২২.৬৩ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। শুক্রবারের ৫.৭২ কোটি থেকে লাফিয়ে রবিবার সেটা ৯.১৮ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে। খুব বিরাট কোনো অঙ্ক না হলেও, উইকএন্ডের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ থিয়েটারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস।
More Stories
রূপোলি পর্দায় নারী: ‘পেড্ডি’-র বিতর্কিত বক্স অফিস বনাম কঙ্গনার ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’-র লড়াই
পর্দায় দুই ভিন্ন দুনিয়া: অনুভূতির সূক্ষ্মতা বনাম স্থূল হাস্যরস
রাম চরণের ‘পেদ্দি’ ও হইচইয়ের ‘গোলাম মামুন ২’: নেপথ্যের অনিশ্চয়তা আর নতুন জল্পনা