ইলন মাস্কের দাবি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে স্পেসএক্সের বার্ষিক রাজস্ব ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে। এক্স (X)-এ মর্গ্যান স্ট্যানলির একটি পূর্বাভাসের জবাবে মাস্ক এই কথা বলেন। মর্গ্যান স্ট্যানলি যেখানে সদ্য তালিকাভুক্ত এই রকেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানির জন্য ২০৩০ সালে ৩৩০ বিলিয়ন ডলার আয়ের কথা ভাবছে, মাস্ক সেখানে প্রায় তিনগুণ বেশি আত্মবিশ্বাসী। এমনকি ২০৩১ সালে আয় ১ ট্রিলিয়ন না ছাড়িয়ে গেলে তিনি নিজেই নাকি বেশ অবাক হবেন। এস-ওয়ান (S-1) ফাইলিং অনুযায়ী ২০২৫ সালে তাদের আয় ছিল ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার। মর্গ্যান স্ট্যানলির হিসেবে ২০২৮ সালে রাজস্ব ১৬০ বিলিয়ন এবং ২০৪০ সাল নাগাদ এই অঙ্ক ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু এতসব গালভরা সংখ্যার আড়ালে একটা কঠিন বাস্তব লুকিয়ে আছে।
আর্থিক খতিয়ান ও লোকসানের বহর
কোম্পানির অফার ডকুমেন্ট ঘাটলে দেখা যায় তারা এখনও লাভের মুখ দেখেনি। ২০২৫ সালে স্পেসএক্সের নিট লোকসান ছিল ৪.৯ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৬-এর মার্চ পর্যন্ত সেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮.৭ বিলিয়নে। এমনকি এস-ওয়ান ফাইলিংয়ে স্পষ্ট করেই লেখা আছে যে, কোম্পানিটি হয়তো ভবিষ্যতেও লাভজনক না-ও হতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চের শেষে তাদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণের বোঝাও নেহাত কম নয়, প্রায় ২৯.১ বিলিয়ন ডলার। কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির পুরো কাঠামোটা দাঁড়িয়ে আছে ২৮.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটা টোটাল অ্যাড্রেসেবল মার্কেট (TAM)-এর অনুমানের ওপর, যার ৯০ শতাংশই আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) খাতের ওপর নির্ভরশীল।
১০ ট্রিলিয়ন ডলারের দৌড় এবং ভবিষ্যতের বাজার
ঠিক এখানেই আসল ব্যাপারটা লুকিয়ে আছে। সিসকোর প্রাক্তন সিইও এবং প্রবীণ বিনিয়োগকারী জন চেম্বারস শিরিন ভানকে ‘ভয়েসেস ফ্রম দ্য ভ্যালি’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন যে, স্পেসএক্সের এই ২ ট্রিলিয়ন ডলারের ভ্যালুয়েশন নিয়ে মেতে থাকাটা বোকামি; এটা অনেক বড় একটা পালাবদলের ইঙ্গিত মাত্র। তাঁর মতে, উদ্ভাবনের গতি এর আগে এতটা দ্রুত কখনও ছিল না। এআই, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অবকাঠামো গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকেই নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে। চেম্বারসের ধারণা, এই যুগান্তকারী পরিবর্তনগুলোর হাত ধরেই পৃথিবীতে প্রথম ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানির জন্ম হবে।
কিন্তু একটা বড় ‘ক্যাচ’ বা ফাঁকি আছে এখানে। চেম্বারস খুব স্পষ্ট করেই বলেছেন যে বেশিরভাগ এআই স্টার্টআপ শেষ পর্যন্ত টিকতে পারবে না, মুখ থুবড়ে পড়বে। আগামী দিনে যারা বাজিমাত করবে, তারা শুধু প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকলেই হবে না। তাদের দক্ষতা দেখাতে হবে এক্সিকিউশন বা বাস্তবায়নে, ব্যবসায়িক স্কেল বাড়ানোতে এবং মূলধনের সঠিক ব্যবহারে। আজ যারা মার্কেট লিডার বলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তাদের অনেকেই হয়তো এই প্রতিযোগিতায় আর টিকে থাকবে না। বাজারটা ঠিক কতটা নির্মম হতে চলেছে, সেটা স্পেসএক্সের ব্যালেন্স শিট আর সিলিকন ভ্যালির এই ঠান্ডা হিসাবনিকাশ থেকেই বেশ আঁচ করা যায়।
More Stories
এনভিডিয়ার এআই সাম্রাজ্যের নেপথ্য কারিগর: কেন এসকে হাইনিক্স ও ভার্টিভ আজ আগের চেয়েও বেশি জরুরি
অ্যাপলের জোড়া চমক: এআই মিউজিক ট্যাগিংয়ের পাশাপাশি এয়ারপডস ৪-এ বিশাল ছাড়