6 আগস্ট 2026

পরিবেশ রক্ষা করে কলকাতা সম্প্রসারণের রূপরেখা দিল আইআইটি খড়্গপুর

কলকাতার ভবিষ্যৎ নগরায়নে সবুজ অঞ্চল, কৃষিজমি, জলাভূমি ও জলাশয় সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।

কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সম্প্রসারণে পরিবেশ রক্ষাকে কেন্দ্র করে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আইআইটি খড়্গপুরের গবেষকেরা। তাঁদের প্রস্তাবে এসপ্ল্যানেড, পার্ক স্ট্রিট ও ডালহৌসি এলাকায় সবুজের পরিমাণ বাড়ানো এবং রাজারহাট, বেহালা ও দমদমে গ্রিন করিডর তৈরির কথা বলা হয়েছে।

অধ্যাপক জয়নারায়ণন কুট্টিপুরাথ ও তাঁর সহযোগীদের গবেষণা ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পলিউশন রিসার্চ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা নগর সম্প্রসারণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কোন এলাকায় উন্নয়ন করা যেতে পারে এবং কোন অঞ্চল সংরক্ষণ করা দরকার, তার সুপারিশ দিয়েছেন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কলকাতা মহানগর ও আশপাশে ৬০ বর্গকিলোমিটারের বেশি সবুজ অঞ্চল, ১৮ থেকে ২০ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমি, ২০ থেকে ২৫ বর্গকিলোমিটার অনাবাদি জমি এবং প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার জলাশয় হারিয়ে গিয়েছে। একই সময়ে কংক্রিট ও পিচঢালা এলাকার অংশ ৭২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৬ শতাংশ হয়েছে।

নিউ টাউন, রাজারহাট, ডানকুনি, বারাসত, মধ্যমগ্রাম, ভাঙড়, সোনারপুর, মহেশতলা ও গড়িয়ায় দ্রুত নগরায়নের কারণে প্রাক-বর্ষা মরশুমে আরবান হিট আইল্যান্ডের প্রভাবে গড় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ছে। অন্যদিকে পরিকল্পিত নগরায়ন ও পর্যাপ্ত সবুজের কারণে কল্যাণী, হালিশহর ও কাঁচড়াপাড়া তুলনামূলক ভাবে শীতল রয়েছে।

গবেষকেরা ডানকুনি, রাজারহাট-নিউ টাউনের প্রান্ত ও মহেশতলায় পরিকল্পিত উন্নয়নের সুযোগ দেখেছেন। পূর্ব কলকাতার জলাভূমি, ভাঙড়, সোনারপুর, হুগলি নদীর বন্যাপ্রবণ সমভূমি এবং রাজারহাটের কৃষিজমিকে কঠোর ভাবে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।