কর্ণাটকের পরিবহণ ব্যবস্থায় সম্প্রতি বেশ বড়সড় রদবদল চোখে পড়ছে। সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের ঝক্কি কমাতে এক ধাক্কায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একদিকে যেমন রাজ্য সরকার প্রতিদিনের লোকাল যাতায়াতের ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের পকেটের বোঝা কমাচ্ছে, অন্যদিকে দূরপাল্লার যাত্রীদের সুরাহা দিতে রেলওয়ের তরফ থেকেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পড়ুয়াদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি বাস পরিষেবা
এতদিন কর্ণাটক সরকারের ‘শক্তি’ প্রকল্পের আওতায় কেবল ছাত্রীদের জন্যই বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা ছিল। কিন্তু গত ১১ জুন, বৃহস্পতিবার পরিবহণ মন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত স্কুল ও কলেজের ছাত্ররাও এই সুবিধা পাবে। অর্থাৎ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সব পড়ুয়াই এখন ফ্রি-তে যাতায়াত করতে পারবে।
রাজ্যের চারটি প্রধান পরিবহণ নিগমের বাসেই এই সুবিধা মিলবে:
-
KSRTC (কর্ণাটক স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন)
-
BMTC (বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন)
-
NWKRTC (নর্থ ওয়েস্ট কর্ণাটক রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন)
-
KKRTC (কল্যাণ কর্ণাটক রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন)
সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হল, যে ছাত্রছাত্রীরা ইতিমধ্যেই চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য গাঁটের কড়ি খরচ করে বাস পাস কিনে ফেলেছিলেন, তাদের টাকা মার যাওয়ার কোনও ভয় নেই। সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে, পাস কেনার পুরো টাকাটাই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিফান্ড করা হবে। সরকারি হিসেব বলছে, ৩০ মে থেকে ৯ জুনের মধ্যে প্রায় ১৯,৭৯২টি পাস ইস্যু করা হয়েছিল, যার সবগুলোর টাকাই ফেরত দেওয়া হবে।
এই গোটা প্রকল্পটির জন্য সরকারের বার্ষিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২৮৬.০৮ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি প্রসেসিং চার্জ এবং অ্যাক্সিডেন্ট রিলিফ ফান্ডের জন্য রাজ্যকে আরও ১৫ কোটি টাকা গুনতে হবে। সেবা সিন্ধু পোর্টাল, কর্ণাটক ওয়ান এবং বেঙ্গালুরু ওয়ান সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন করে ভেরিফিকেশনের পর এই ফ্রি পাস পাওয়া যাবে। মজার ব্যাপার হল, কর্ণাটকের সীমানা পেরিয়ে ভিনরাজ্যে পড়তে যাওয়া পড়ুয়ারা, অথবা প্রতিবেশী রাজ্যের সীমানায় থাকা যে পড়ুয়ারা কর্ণাটকে পড়তে আসে, তারাও এই সুবিধার আওতাভুক্ত। তবে পুরনো শিক্ষাগত যোগ্যতা, দূরত্ব বা ভ্যালিডিটির নিয়মকানুনগুলো আগের মতোই বহাল থাকছে।
রাজস্থান রুটে স্পেশাল ট্রেনের মেয়াদ বৃদ্ধি
রাজ্য সরকার যখন প্রতিদিনের যাতায়াত মসৃণ করতে ব্যস্ত, তখন দক্ষিণ-পশ্চিম রেলওয়ে (South Western Railway) দূরপাল্লার যাত্রীদের ভিড় সামলাতে ময়দানে নেমেছে। কর্ণাটক থেকে রাজস্থান—এই রুটে এমনিতেই যাত্রীদের মারাত্মক ভিড় লেগেই থাকে। বিশেষত এই সময়ে কনফার্ম টিকিট পাওয়াটা রীতিমতো লটারির টিকিট পাওয়ার সমান। এই বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখেই মাইসুরু-মাদার জংশন স্পেশাল ট্রেনের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল।
স্পেশাল ট্রেনের নতুন সময়সূচি:
-
মাইসুরু থেকে মাদার (Train No. 06281): আগামী ২০ ও ২৭ জুন (শনিবার) যাত্রা করবে।
-
মাদার জংশন থেকে মাইসুরু (Train No. 06282): ফিরতি পথে এই ট্রেনটি চলবে ২২ ও ২৯ জুন (সোমবার)।
কর্ণাটক থেকে রাজস্থান যাওয়ার এই লম্বা রুটে ট্রেনটি হোল নরসিপুর, হাসান, আর্সিকেরে, বিরুর, চিকজাজুর, চিত্রদুর্গ, রায়দুর্গ, বেল্লারি ক্যান্টনমেন্ট, হোসাপেটে, কোপ্পাল, গদাগ, হুবলি, ধারওয়াড়, লোন্ডা, বেলাগাভি, মিরাজ, সাংলি, পুনে, লোনাভালা, কল্যাণ, ভাসাই রোড, সুরাট, ভদোদরা, রতলাম, মান্দসৌর, নিমাচ, চিতোরগড়, ভিলওয়াড়া এবং আজমের-এর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে স্টপেজ দেবে।
নিয়মিত ট্রেনগুলোতে যারা কনফার্ম টিকিট পাচ্ছিলেন না, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত ট্রিপগুলো আক্ষরিক অর্থেই সামার ট্রাভেলের লাইফলাইন হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পরিবহণ সংস্থাগুলোর এই জোড়া উদ্যোগে কর্ণাটকের যাতায়াত ব্যবস্থায় বেশ বড়সড় একটা স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে, যা দৈনন্দিন যাত্রী এবং পর্যটক উভয়ের জন্যই যথেষ্ট লাভজনক।
More Stories
৭ই মে ২০২৬-এর গ্রহগতি: চন্দ্র-বৃহস্পতির টানাপোড়েনে রাশিচক্রের হালচাল
আজকের রাশিফল: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান এবং আপনার দিনলিপি
২৩শে এপ্রিলের রাশিফল: হাতছানি দিচ্ছে সুযোগ, তবে চাই সতর্কতা